ভিডিও

স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং পুষ্টি; প্রথম অংশ

স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং পুষ্টি; দ্বিতীয় অংশ

স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং পুষ্টি; তৃতীয় অংশ

স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং পুষ্টি; চতুর্থ অংশ

প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ও উত্তর

আজকের প্রশ্ন ও উত্তর

যৌনরোগ

নারী ও পুরুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপন খুবই স্বাভাবিক। তবে এতে সামাজিকতা ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে চলা অত্যাবশ্যক। আমরা অনেকেই মনে করি, কিছু কিছু বিষয়, যেমন- যৌনসম্পর্ক, যৌনরোগ, যৌন আচরণ ইত্যাদি সম্পর্কে জানা ঠিক নয়। এ সব বিষয় সম্পর্কে জানলে মানুষ খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু কোনো বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি জানলে কোনটি করা উচিত (নিরাপদ) এবং কোনটি করা উচিত নয় (ঝুঁকিপূর্ণ), আর করলে তার ফলাফল কি হতে পারে তা জানা যায় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। যেমন ধরা যাক, যৌনরোগ সম্পর্কে। অনেকেই মনে করতে পারে, যারা যৌনপল্লীতে বা ‘খারাপ জায়গায়’ যায় বা যৌনকর্মীদের সাথে যৌনসম্পর্ক করে, তাদের যৌনরোগ হয়। আমরা অনেকে খারাপ জায়গা বলতে যৌনপল্লী মনে করি। যৌনরোগ হওয়া শুধুমাত্র যৌনপল্লীতে যাওয়ার উপর নির্ভর করে না। অনেকে মনে করে, ‘আমি যেহেতু ও রকম কোনো জায়গায় যাই না, এ বিষয়ে আমার জানার দরকারও নাই।’ কিন্তু যৌনপল্লীতে না গেলেও যৌনরোগ হতে পারে। কোনো সংক্রমিত/আক্রান্ত লোকের সাথে যেকোনো ধরনের যৌনমিলন করলে যৌনরোগ হতে পারে। তাই আমরা যদি যৌনরোগ কি, কীভাবে হয়, কি করলে এই রোগ হবে না, রোগের লক্ষণগুলো কি কি, চিকিৎসা না করালে তার ফলাফল কি হতে পারে এবং এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে কোথায় সঠিক চিকিৎসা করাতে হবে তা পুরোপুরিভাবে জানি, তাহলে আমরা এ রোগ থেকে সাবধান থাকবো, নিজেকে এবং অন্যদেরও রক্ষা করতে পারবো। অবৈধ যৌনমিলন তা যে কোনো বয়সেই হোক না কেন, সেটা অনৈতিক এবং সমাজে ও ধর্মে তা গ্রহণযোগ্য নয়। একমাত্র বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কই বৈধ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

অন্যান্য

যৌতুক

কোনো কোনো সময় দেখা যায় যে, বিয়ের সময় বা পরে ছেলেপক্ষ মেয়েপক্ষের কাছ থেকে টাকা পয়সা বা ‘উপহার’ চেয়ে নেয় বা দাবি করে, একে যৌতুক বলে। তবে যৌতুক ধর্মীয় কোনো নিয়ম বা শর্ত নয়। যৌতুক দেয়া-নেয়া আমাদের সমাজে সামাজিক ব্যাধি হিসাবে প্রচলন আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছেলেপক্ষ যৌতুক দাবি করে। কিন্তু যৌতুক আমাদের দেশে আইনত দণ্ডনীয়। যৌতুক দেয়া এবং নেয়া উভয়ই অপরাধ এবং এর জন্য জেল-জরিমানার ব্যবস্থা আছে। আমাদের দেশে অনেক মেয়ে যৌতুকের শিকার হয়ে নির্যাতিত হচ্ছে এবং মৃত্যুবরণ করছে। এই যৌতুকপ্রথা বন্ধ করার জন্য সরকারি আইন রয়েছে। আইন অনুযায়ী যিনি যৌতুক দেন এবং নেন তাদের দু’জনেরই ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে অথবা ৫ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। আবার জেল ও জরিমানা দুটোই হতে পারে। যৌতুক বন্ধ করার জন্য সরকারি আইন থাকলেও শুধুমাত্র আইন দিয়ে যৌতুক প্রথা বন্ধ করা যাবে না। যৌতুক প্রথা বন্ধ করতে হলে পাত্র-পাত্রী ও পিতামাতাসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। তোমরা মেয়েরা যৌতুক দিয়ে বিয়ে করবে না এবং ছেলেরা যৌতুক নিয়ে বিয়ে করবে না- এই মানসিকতা ও প্রতিজ্ঞা এখন থেকেই তোমাদের নিতে হবে। আমাদের দেশে কেউ কেউ যৌতুককে সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি হিসেবে মনে করে। বিয়েতে যতো বেশি যৌতুক আদায় করা যায় বা দেয়া যায় ততোই যেন সম্মান বেড়ে যায়। কখনো ছেলে নিজে, তার বাবা-মা বা অভিভাবকরা যৌতুক দাবি করে। আবার অনেক পরিবারে যৌতুক দেয়া-নেয়ার প্রচলনও দেখা যায়। আমাদের সমাজে অনেকে মেয়েদের অন্যের ওপর নির্ভরশীল মনে করে। কোনো কোনো ছেলেপক্ষ মনে করে একটা মেয়েকে বিয়ে করা মানে তাকে ও তার মা-বাবাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করা। তাই ছেলেপক্ষ মেয়েপক্ষের কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা পেতে চায়। অনেক সময় পরিবেশ, পরিস্থিতির ওপরও এগুলো নির্ভর করে। অনেক সময় ছেলেপক্ষ আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে, ছেলের পড়াশুনার খরচ চালানোর জন্য বা ছেলে বেকার হলে ব্যবসা করার জন্য যৌতুক চায়। তবে যেকোনো অবস্থাতেই যৌতুক নেয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
আরও...