এম. আর. এবং গর্ভপাত

গর্ভকালের প্রথম ২৮ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়ে গেলে সেই প্রক্রিয়াকে গর্ভপাত বলে। গর্ভপাত অনেক্ সময় মাতৃমৃত্যুর কারণ হয়। গর্ভপাত মূলতঃ ২ ভাগে ভাগ করা যায়।

১। স্বতঃস্ফূর্ত গর্ভপাত
২। সচেষ্ট গর্ভপাত

১। স্বতঃস্ফূর্ত গর্ভপাত আপনা আপনিই হয়ে যায়। এ ধরণের গর্ভপাত সাধারণত গর্ভধারণের প্রথম ২-৩ মাসের মধ্যে বেশি হয়। এ গর্ভপাত কখনও সম্পূর্ণ হয়, আবার কখনও সম্পূর্ণ হয় না। যখন গর্ভের ভ্রণ, থলি, পর্দা, গর্ভফুল সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসে তখন তাকে সম্পূর্ণ গর্ভপাত বলে এবং যখন গর্ভের ভ্রণ, থলি, পর্দা, গর্ভফুল কিছু কিছু জরায়ুর ভিতরে রয়ে যায়, তখন তাকে অসম্পূর্ণ গর্ভপাত বলে। এ ধরণের গর্ভপাত হলে দেরী না করে দ্রুত হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

২। সচেষ্ট গর্ভপাতঃ গর্ভবতী মা যখন নিজের ইচ্ছায় গর্ভপাত ঘটায় তখন তাকে সচেষ্ট গর্ভপাত বলা হয়। সচেষ্ট গর্ভপাতের কারণ সমূহঃ

  • মায়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এমনকি জীবন রক্ষার জন্য গর্ভপাতের প্রয়জন হয়।
  • কোন কারণে গর্ভের শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মানোর সম্ভাবনা থাকলে।
  • পারিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি কার্যকর না হলে।

মাসিক নিয়মিতকরণ কি

মাসিক নিয়মিতকরণ এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে গর্ভবতী (৬-১০ সপ্তাহ ) মহিলার জরায়ুর অভ্যন্তরের উপাদান সমূহ সিরিঞ্জের সাহায্যে বের করে আনা হয়।

বাংলাদেশে মাতৃ মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ অনিরাপদ গর্ভপাত। অনিরাপদ গর্ভপাতজনিত মাতৃমৃত্যু কমানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে “ মাসিক নিয়মিত করণ” - (Menstrual Regulation) সংক্ষেপে যা এম. আর. নামে পরিচিত এই পদ্ধতি চালু করে। মায়ের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য এই পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয়।

বাংলাদেশে সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী কেবলমাত্র এম. আর. প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ডাক্তার মাসিক বন্ধের ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মাসিক বন্ধের ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত মাসিক নিয়মিত করণ “ - ( Menstrual Regulation) সেবা দিতে পারবেন।

মাসিক নিয়মিতকরণ জরায়ু এস্পিরাশান পদ্ধতিতে করা হয় । মাসিক নিয়মিতকরণের জন্য একজন গর্ভবতীকে মাসিক নিয়মিতকরণের আগে অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।

মাসিক নিয়মিতকরণের জন্য গ্রহীতার স্বাস্থ্য ও গর্ভধারণ সংক্রান্ত যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে

নিচের বিষয়গুলো সবকটি ‘না’ হলে কেবল মাত্র মাসিক নিয়মিতকরণ করা হয়ে থাকে।

১। গর্ভধারণের সময় ১০ সপ্তাহের বেশি।
২। মহিলার প্রজননতন্ত্রে প্রদাহের কোন লক্ষণ আছে কিনা ।

  • তলপেটে ব্যথা
  • সহবাসের সময় ব্যথা বোধ
  • প্রসাবে জ্বালা পোড়া
  • দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব
  • যৌনাংগে ঘা
  • জরায়ুতে টিউমার

৩। উচ্চ রক্ত চাপ
৪। হৃদরোগের লক্ষণ আছে কিনা
৫। অনিন্ত্রিত বহুমূত্র রোগ
৬। জন্ডিস
৭। হিমোফিলিয়া
৮। সিজারিয়ান অপারেশনের ইতিহাস;

মাসিক নিয়মিতকরণের ফলোআপ

মাসিক নিয়মিতকরণের ফলোআপ করা খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ। কোন জটিলতা বা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে হবে।